বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় চোরাকারবারিদের হামলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক চোরাকারারিও আহত হয়েছে। ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে উপজেলার ফুলতলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ রেইক্কাশিয়া পোস্ট সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোরে রেইক্কাশিয়া পোস্ট এলাকায় বিজিবির একটি টহল দল চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বার্মিজ গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল চোরাকারবারিদের একটি সংঘবদ্ধ দল। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় ল্যান্স নায়েক মো. রাজু ও সিপাহি মো. শরিফ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মো. ইসমাইল নামে এক চোরাকারবারি আহত হয়।
আহত দুই বিজিবি সদস্যকে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সদর দপ্তরের এমআই রুমে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আহত চোরাকারবারি ইসমাইল স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নাম উল্লিখিত আসামিদের মধ্যে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি মঙ্গলবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
চোরাকারবারিদের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।


