বিএনপি ক্ষমতা গেলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ধানের শীষকে নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশ। আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য সুন্দরভাবে শিক্ষাব্যবস্থা করে তুলতে হবে। সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় যানজট আছে, রাস্তা-ঘাট সংস্কার করতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশে তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। সমস্যা সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে বিএনপি কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান সোমবার ঢাকা-১৭ আসনসহ বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্যকালে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারা আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তার মতে, ধানের শীষকে নির্বাচিত করলে সবাইকে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির পরিকল্পনায় দেশের বেকার সমস্যা সমাধান করার জন্য মিল কারখানা স্থাপন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে শুধুমাত্র মেগা প্রজেক্ট হয়েছে, কিন্তু মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি জনগণের সমর্থন চেয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান এবং দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিএনপির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে, এবং বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিল কারখানা তৈরি করা হবে। এতে বেকার সমস্যা সমাধান হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান
তারেক রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এখন একটি মহল দেশের গণতন্ত্রকে বিপথগামী করার চেষ্টা করছে। তারা নকল ব্যালেট সিল বানানোর চেষ্টা করছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে, যাতে আমরা যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি, তা আবার হারিয়ে না যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা সজাগ থাকি, তাহলে বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না। আমরা যদি সতর্ক থাকি, বাংলাদেশের উন্নতির গতি কেউ রোধ করতে পারবে না।’
তরুণদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ার পরিকল্পনা
ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক জনসভায় তারেক রহমান বলেন, সারা দেশে ভোকেশনাল, ট্রেনিং, টেকনোলজিকাল এবং আইটি ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে, যেখানে তরুণদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে তারা দেশে এবং বিদেশে কাজের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের দেড় কোটি প্রবাসী রয়েছেন, যারা বিদেশে কাজ করেন। আমরা তরুণদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করবো, যাতে তারা বিদেশে কাজের সুযোগ পায় এবং দেশের জন্য অর্থ পাঠাতে পারে।’
স্বাস্থ্য খাতে কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ
তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচারণা শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা হবে এবং জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান তার দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং জনগণকে তাদের সমর্থনে আহ্বান জানান।


