ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধরা শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের চট্টগ্রামের চশমা হিলের বাসভবনে আগুন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার মেয়র গলিতে অবস্থিত ওই বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি শিক্ষামন্ত্রীর বাসার সামনে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারা বাসভবনে হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
চশমা হিলে অবস্থিত এই বাসভবনটি শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের পৈত্রিক নিবাস। এটি তার বাবা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনবারের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবন হিসেবে পরিচিত।
এই বাসভবনে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের ৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চশমা হিলের একই বাসায় হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচার হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।
এর আগে, বুধবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাদির ব্রেন সক্রিয় করতে অপারেশনের প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য শরীর ও ব্রেনের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। তবে তার ব্রেন ছাড়া অন্যান্য সব অঙ্গ সক্রিয় রয়েছে।
ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হচ্ছিল। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা।
বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন।
সেখানে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি ওসমান হাদির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করতেও অনুরোধ করেছেন।


