মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে লাল কিংবা সাদা বলের কোনো সিরিজ মানেই উইকেট নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। সাধারণত কালো মাটি দিয়ে বানানো উইকেটই হোম অফ ক্রিকেটের সিগনেচার। অবশ্য সেটা কখনো গাঢ় কালো, কখনো কালচে। তবে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগের দিন দেখা গেল ভিন্ন ধাচের এক উইকেট।
গোটা সিরিজের জন্য যে দুটো উইকেট বানানো হয়েছে, তা রীতিমতো চকমক করছিল। যাকে বলা হচ্ছে গ্লসি উইকেট। আগে কখনো এত কালচে উইকেট দেখা যায়নি বলেই হয়তো দুই দলের কোচ আর ক্রিকেটাররা ধাপে ধাপে উইকেট দেখে এসেছেন।
উইকেট কালো হলেও এবারের রূপ একটু ভিন্ন হবে। ওপরের অংশে আছে। গ্লসি ফিনিশ, যদিও ঘাসের উপস্থিতি খুব বেশি থাকবে না। বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্টের প্রধান টনি হেমিং আগে এমন মাঠে কাজ করেছেন বলে এটা তার জন্য নতুন কিছু নয়। অবশ্য দীর্ঘদিনের বদনাম আর বেশ কয়েকবার ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়া মিরপুরের চিরায়ত উইকেটে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন হেমিং।
এই পরিবর্তনই এখন আলোচনায়। কারণ এতদিনেও স্পোর্টিং হয়ে ওঠেনি মিরপুরের উইকেট। কারণ লাল মাটির উইকেটের তুলনায় কালো মাটির উইকেটে বাউন্স এবং গতি কম থাকে। বল আসে থমকে, দেখা যায় লো বাউন্স, থাকে যথেষ্ট টার্নও।
এবার উইকেটে ঘনকালো রঙ তো বটেই, মাঝে আছে ছোপ ছোপ ধূসর দাগও। কেন এই দাগ? এক মাঠকর্মীর সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের সাবেক প্রধান কিউরেটর যখন উইকেট বানাতেন তখন কাটা ঘাস ব্যবহার করতেন, পরবর্তীতে পানি দিয়ে ভারী রোলার দিয়ে করাতেন রোলিং। তবে এবার হেমিং বদলে ফেলেছেন প্রক্রিয়া। শুধু পানি আর রোলার দিয়েই উইকেট বানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির কাছে জানতে চাওয়া হয়, উইকেট কেমন দেখেছেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক এখনও উইকেট দেখেনি, তবে আমি দেখেছি। জানি না, ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব কি না… তবে এমন কিছু আগে কখনও দেখিনি। তবে আমরা সবাই জানি, উপমহাদেশের চ্যালেঞ্জ কেমন, বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য। আমার মনে হয়, ভারত থেকে আসায় ছেলেদের এবার কিছুটা সুবিধা হবে। ছেলেরা এই ধরনের বা সবচেয়ে কাছাকাছি ধরনের কন্ডিশনে অভ্যস্ত হয়ে এসেছে।”
অবশ্য বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স এক সাংবাদিকের একই ধরনের প্রশ্নে বেশ মজাচ্ছলেই বলেছেন, ‘আমার চেয়ে মিরপুরের উইকেট সম্পর্কে আপনারা বেশি ভালো জানেন। আপনারা আমাকে বলতে পারেন (উইকেট কেমন)। আমার তো উইকেট দেখে নরম্যাল মিরপুরের উইকেটই মনে হচ্ছে। সাধারণত এখানে টার্ন আছে, আমাদের জন্য ব্যাপারটা ভালো।’


