অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘একজন প্রধান বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পরে দিনগুণতে থাকেন কবে তিনি ওই পদে যাবেন। অতীতে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বসানোর চেষ্টা দেখেছি। আমরা এই জায়গা থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাই।’
রোববার, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক কর্মীরা সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আগের সরকারের সময় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আদালত বসিয়ে বিচারের নামে সাজা দিয়েছেন, তারা জবাবদিহির বাইরে রয়ে গেছেন। আমরা তাদের ফেরেশতার মতো দেখি। তারা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ দেখেছি।’
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সানজিদা ইসলাম তুলি, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জেলা ও দায়রা জজ শামসুদ্দিন মাসুম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও খালেদ হামিদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, গুম সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য আইনটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের সময়ে যেভাবে গুম কমিশন অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছিল, তাতে অপরাধীই বেশি লাভবান হতো। সেটাকে আমরা আরও সময়োপযোগী করার চেষ্টা করছি।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে, তাতে করলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একইসঙ্গে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মধ্যে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার হবে, তদন্ত হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম নিয়ে একটি কার্যকরী আইন করতে চাই। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যেন নখ দন্তহীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে যুগপোযোগী ও কল্যাণমুখী আইন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, নতুন জেনারেশন অনেক মেধাবী। তাদের সঠিক জায়গায় বসাতে হবে। আমরা একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে নষ্ট করে ফেলেছি।
সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘আমার স্বামী সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীকে ২০১২ সালে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে গুম করা হয়। এরপর আরও অনেক লোককে গুম করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গুম সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য পাইনি। দেশ থেকে গুম চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে।
গুম একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। আমি চাই আগে যারা গুম হয়েছেন, তাদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য সরবরাহ করা হোক, যোগ করেন তিনি।


