পেশায় একজন গাড়ি চালক। নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোরশেদ’ হিসেবে। উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে দেখাতেন দাপটও।
পুলিশ ও আদালতের বিভিন্ন কর্মকর্তার মামলার বিষয়ে নির্দেশ দিতেন। কখনও নির্দেশ দিতেন দ্রুত তদন্ত করতে, আসামিদের রিমান্ডে নিতে। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগেও নির্দেশ দিতেন আসামিরা জামিন চাইলে তাকে জানাতে ও মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে।
তার প্রকৃত নাম মো. অপু। গত ১১ মে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এই ভুয়া ‘মেজর জেনারেল।’ পরে সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের করে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, অপু যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলায় দ্রুত আসামিদের ধরতে নিজেকে সামরিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওসিসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
পুলিশ জানায়, মামলাটি করার পর অপু তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গিয়ে নিজেকে ‘মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোরশেদ’-এর আত্মীয় পরিচয় দেন। পরে তিনি প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি, এডিসিসহ আদালতের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মামলার বিষয়ে তদবির করেন।
অপুর বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মেদী আশুলাই গ্রামে। বর্তমানে তিনি ঢাকার ভাষানটেক থানার মিরপুর-১৪ এলাকার সাগরিকা খানবাড়ির বাসিন্দা।
যাত্রাবাড়ী থানা তথ্য বলছে, গত এপ্রিলে অপু তার প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ে বহির্ভুত সম্পর্কের অভিযোগ এনে মোট সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে অপহরণ ও ১০ লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও আনা হয়।
অপুর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই ইমরান হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, “অপু তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ আইডি পরিচালনা করতেন। তার সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত আছে কিনা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
মেজর জেনারেল পরিচয় দিয়ে অপু প্রথমে ফোন দেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এডিসি নাসির আহম্মেদকে। এই কর্মকর্তা জানান, যে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ফোন দেওয়া হতো, সেটিতে একজন মেজর জেনারেলের নাম ও ছবি ব্যবহার করা ছিল।
পরে আবার ভিন্ন নম্বর থেকে একই কর্মকর্তার কাছে সে মেজর জেনারেলের ড্রাইভার পরিচয়ে ফোন দেয়।


