দেশি ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বহাল থাকার মধ্যেই নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি বিবেচনায় নিয়ে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বা এসএলএফের হার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি বা এসডিএফের হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন হার আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির ১৩তম সভায় বৃহস্পতিবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কমিটির প্রথম সভা। গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড রুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের পর নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থানে সতর্ক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতিতে ঋণ ও বিনিয়োগের গতি দুর্বল হয়ে পড়ায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির মধ্যেও ঋণের ব্যয় কমানোর পথে গেল বাংলাদেশ ব্যাংক।
মনিটারি পলিসি কমিটির সদস্যরা সভায় অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়।
এসব অর্থনৈতিক সূচকের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার পর মুদ্রানীতির প্রধান হাতিয়ার নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। তবে এসডিএফের হার অপরিবর্তিত রাখায় সুদহার করিডোরের নিম্নসীমায় কোনো পরিবর্তন আসছে না।
নীতিগত সুদহার কমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি অর্থ নেওয়ার ব্যয় কমে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে ব্যাংকঋণের সুদের ওপর পড়তে পারে। তবে ঋণের সুদ কতটা কমবে, তা ব্যাংকগুলোর তারল্য, আমানতের ব্যয় ও ঋণঝুঁকির ওপর নির্ভর করবে।
সভায় ডেপুটি গভর্নর মো. হাবিবুর রহমান, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।


