বাংলাদেশ রেলওয়েতে স্থায়ী ট্রেন চালকদের পদোন্নতি না দিয়ে চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগের প্রতিবাদে অন্তত ১০টি যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থামিয়ে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ট্রেন চালকরা। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চয়তায় পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের, দেখা দেয় তীব্র দুর্ভোগ।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস জয়দেবপুরে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট এবং চিত্রা এক্সপ্রেস ধীরাশ্রম ও টঙ্গী মিলিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে ছিল। কালুখালীতে একটি লোকাল ট্রেন প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে, নকশীকাঁথা কমিউটার ও টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস পোড়াদহ স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট বিলম্বে চলাচল করে।
পাশাপাশি, বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে প্রবেশের পর ওয়াশপিটে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বের মুখে পড়ে। বনলতা এক্সপ্রেস ও ঢালারচর এক্সপ্রেস সারদহ রোডে প্রায় ১ ঘণ্টা এবং সাগরদাড়ী এক্সপ্রেস মোবারকগঞ্জে প্রায় ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়েতে ট্রেন চালকের ঘাটতি থাকায় কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি কয়েকজন চালক নিয়োগ দিলে রেলের স্থায়ী চালকরা পদোন্নতি না পাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ১০টি ট্রেনের যাত্রা ব্যাহত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ভেবেছিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে স্থায়ীদের হয়তো আর পদোন্নতি হবে না। এটি তাদের ভুল ধারণা ছিল। তবে আলোচনার পর বর্তমানে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
এই আন্দোলনের জের ধরে সাময়িকভাবে দুজন রানিং স্টাফকে বদলি করা হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তবে পূর্বসংকেত ছাড়া হঠাৎ ট্রেন বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানোর বিষয়ে ফরিদ আহমেদ জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের কারণে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত চালকদেরও আপাতত কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলে লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার পদে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন ও ট্রেন পরিচালনায় প্রচণ্ড চাপ তৈরি হচ্ছিল। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই কয়েকটি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে, যার বিরোধিতায় রানিং স্টাফরা এই আন্দোলনে নামেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমাঞ্চলে অনুমোদিত ট্রেন চালকের (লোকোমাস্টার) ৩৬৪টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭২ জন, অর্থাৎ ১৯২টি পদই শূন্য। সিনিয়র লোকোমাস্টারের (এসএলএম) ১৩৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১১৮ জন কর্মরত এবং ১৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী লোকোমাস্টারের (এএলএম) ৪৮২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৪৩ জন, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ১৩৯টি।


