যৌন হয়রানির অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭ তম সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস. এম. মাহবুবুর রহমান সিন্ডিকেট সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি যৌন হয়রানির বিষয়ের কোনো কমিটি নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত পৃথক উচ্চতর ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং বিজয়’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
পরে গত শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক এবং শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি শিক্ষক-প্রশাসনের সংহতি প্রকাশের পর রাত ১০টার দিকে তালা খুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে বিজয়’২৪ ছাত্রী হলের বাথরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।
এর আগে গত ১৮ জুন অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ডিসিপ্লিনের প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে গত বছরের আগস্টে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। পরে একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও অন্য অভিযোগে দুই বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


