চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ কাউছার জামান বাবলু (৩৪) হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে উপজেলার পূর্ব রাউজান এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- পূর্ব রাউজান এলাকার মো. শফি (৩৯) ও মো. সুমন (৩৩)। শফি মামলার ৩ নম্বর এবং সুমন ৫ নম্বর আসামি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে বাবলুকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত বাবলু রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিখীল খামারটিলা এলাকার আবুল কালাম সওদাগরের দ্বিতীয় ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং পাশাপাশি বালু ও ইট সরবরাহের ছোটখাটো ঠিকাদারি কাজ করতেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বাবলু তার নানার বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মামাতো ভাই পলিনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে পৌরসভার ঢালার মুখ সংলগ্ন বিএনও ব্রিকফিল্ডের উত্তর-পূর্ব পাশে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। আট থেকে ১০ জনের এই দলটি বাবলুকে প্রথমে মারধর করে এবং পরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বাবলুর পিঠের বাম পাশে গুলি লাগলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত বাবলুর বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।


