শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেব: জাকসুর ভিপি জিতু

শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেব: জাকসুর ভিপি জিতু
জাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শিক্ষার্থীদের যেকোনো চাওয়া-পাওয়াকে সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেই জায়গা থেকে আমি অবশ্যই তাদের চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব দিয়ে সবসময় কাজ করার চেষ্টা করব। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করিনি, আগামীতেও করব না।’

শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘যারা ভোট বর্জন করেছে তারাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমার প্রথম কাজ হলো দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা। যেখানে সবার চিন্তা-ভাবনা স্থান পাবে এবং আমরা মিলে গড়ে তুলব আগামীর নতুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)।’

নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জিতু বলেন, ‘নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটি ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছুর পরেও ৩৩ বছর পর এই নির্বাচন আয়োজন প্রশাসনের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। আর যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, ভরাডুবির আশঙ্কায় তারা সরে দাঁড়িয়েছেন।’

আরও পড়ুন

আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক।

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম থেকে সোচ্চার ছিলেন। এমনকি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে যৌক্তিক সব আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি। মূলত জুলাই আন্দোলন থেকে তার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে জাবি ক্যাম্পাসে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আগে জিতু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আন্দোলনের সময় সর্বপ্রথম ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে আহত হন। পরবর্তী সময়ে আরিফ সোহেল আটক হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে ‌‘ফার্স্ট ম্যান’ হিসেবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাবির আন্দোলন পরিচালনা করেন। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।

৩৩ বছর পর নির্বাচন

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। জাকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন মোট ১১ হাজার ৭৪৭ জন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে নয়জন, জিএস পদে নয়জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ছয়জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে মোট ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০টি ছাত্রী হল ও ১১টি ছাত্র হল। প্রতিটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন সহকারী পোলিং কর্মকর্তা।

কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে ভোটাররা মোট ৪০টি ব্যালটে ভোট দেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন ছিলেন প্রায় ১ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য।

এ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চারটি প্যানেল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad