কুষ্টিয়া শহরের একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে কয়েক দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীকে আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
ঘটনাটি কুষ্টিয়া শহরের ঈদগাহপাড়া এলাকার মাদরাসাতুস-সালেহীন মাদ্রাসায়। বুধবার সকালে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান।
পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার দায় অন্যায়ভাবে হোসাইন (১৩) নামে ওই শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে গত রোববার থেকে টানা তিন দিন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে রাতে সুযোগ পেয়ে এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। পরে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। তাদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. ফজর আলী জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনার দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে মারধর করা হয়। তার পিঠ, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। রাতে হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসাতুস-সালেহীন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, হোসাইন প্রায়ই সহপাঠীদের খাবার খেয়ে ফেলত। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এবং সেও কিছু বিষয় স্বীকার করেছে। ‘তাকে এভাবে মারধর করা আমার উচিত হয়নি’, বলেন তিনি।
তবে শিক্ষার্থীকে কয়েক দিন আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদুজ্জামান বলেন, হোসাইনের বাড়ি মাদ্রাসার খুব কাছে। তাকে আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করেছেন।
মাদ্রাসার এতিমখানার সুপার মোছা. সালমা জানান, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


