আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় সারা দেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘পূজা যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে দলের সবাইকে সহযোগিতার মনমানসিকতা নিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে হবে।’
শুক্রবার বিকালে জেলা ও মহানগরের সভাপতি বা আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
পূজামণ্ডপে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা এবং প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা সুযোগসন্ধানী এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায় তারা যাতে বিশৃঙ্খলা না ঘটাতে পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি নেতাদেরও নৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।’
পূজামণ্ডপে শান্তি রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘পূজামণ্ডপগুলোতে বিশৃঙ্খলা চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।’
এদিকে, চলতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে অষ্টমী, নবমী ও দশমী এই তিনদিন সরকারি ছুটির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। একই সঙ্গে দূর্গাপুজায় নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিমা ভাঙচুর বন্ধ এবং মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেনা টহলের দাবিও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় দাবিগুলো জানানো হয়।
মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে জানান, সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা পাঁচ দিনব্যাপী হয়। কিন্তু বর্তমানে মাত্র দুইদিন সরকারি ছুটি থাকে। ফলে অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পূজার আনন্দ উপভোগ বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন না। তাই সরকারের কাছে অবিলম্বে দুর্গাপূজায় তিনদিন ছুটির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।


