চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে একটি ভারতীয় ভুয়া আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করার উদ্দেশ্যে ইমন ভুয়া আধার কার্ডটি তৈরি করেন। কার্ডে তার নাম দেওয়া হয় ‘আজহার খান’।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ইমন সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিবর্তে বিদেশি সিম ও মুঠোফোনের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি বিদেশে অবস্থানরত গ্যাং লিডার সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পরামর্শে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার সকালে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ধরতে দাউদকান্দি, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা ও খুলনার রূপসায় একাধিক চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। তবে তিনি বারবার গাড়ি, চালক ও যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত যশোর পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার একটি অস্ত্র মামলা। এ ছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও তার বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন আরও ছয়টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানির সময় ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।


