হবিগঞ্জে হামলায় আহত জাতীয় ছাত্রশক্তি নেতা আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা এবং এনসিপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এসব দাবি তুলে ধরেন।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ‘আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলের ওপর হামলা-নিপীড়ন করতো। ঠিক এখন বিএনপি সরকার হামলা করার মধ্য দিয়ে সে পথে অগ্রসর হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম দাবি আলিফ চৌধুরীর চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে, চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে এবং আলিফ চৌধুরী ও তার পরিবারকে সরকার অবশ্যই ক্ষতিপূরণের আওতায় নিয়ে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় দাবি, যারা হামলা করেছেন, সেই চিহ্নিত হামলাকারীদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
আখতার হোসেনের দাবি, হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।
তৃতীয় দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) যারা গণতান্ত্রিক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে মানুষের কথা বলছেন, তাদের কথা বলতে দিতে হবে। জুলাই পদযাত্রাসহ সকল ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জাতীয় ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলা নেতা আলিফ চৌধুরী হামলায় একটি চোখ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পরে তিনি এখন হাসপাতালে বেডরেস্টে আছেন। তার সেই চোখটি কখনোই ভালো হবে না এবং ডাক্তার জানিয়েছেন তার ডান চোখও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র তাই নয়, আমরা যখন এখানে সংবাদ সম্মেলন করছি, তার ঘণ্টাখানেক আগে সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির যে গাড়িবহর ছিল, সে গাড়িবহরের ওপরে হামলা করা হয়েছে।’ তার দাবি, ওই সময় এনসিপির নেতারা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের কবর জিয়ারত ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফিরছিলেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া বলেন, দলের ‘দেশগড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি দেশের ১০০টি উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়ে আসছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে কোথাও কোনো ধরনের ভায়োলেন্স কিংবা আইন ভঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটেনি।’
হবিগঞ্জে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আলিফ চৌধুরীর চোখে রড ঢুকিয়ে দেয়ার মতো বর্বরচিত হামলার সাক্ষী আমরা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে হলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সে আর কখনোই হয়তো এই পৃথিবীকে স্বাভাবিক মানুষের মতো দেখতে পারবে না।’
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য পাইনি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমরা শঙ্কা করছি যে, এটা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে, যেহেতু তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, ‘রাজনীতির ক্ষেত্রে কারো বক্তব্য আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু আপনি কি এটাকে রড দিয়ে জবাব দিবেন? আপনার যদি কারো বক্তব্য পছন্দ না হয়, আপনিও বক্তব্য দিতে পারেন তার বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কথাকে কথা দিয়ে আমরা রাজনীতিটা করব। যদি মনে হয় কোথাও আমরা আইন ভঙ্গ করি, তাহলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এর জন্য হামলা কাম্য নয়।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আসিফ বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপির নেতারা সমস্ত বাধা ডিঙিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হবে এবং বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।’


