গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহম্মদ বলেছেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বামপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। বামপন্থীরা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় শাসকগোষ্ঠী তাদের ওপর নানা আক্রমণ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য।
আনু মুহম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। আইয়ুব খান, এরশাদ ও শেখ হাসিনার আমলে উন্নয়নের নামে অবকাঠামো গড়ে উঠলেও পুঁজিপতিরা লাভবান হয়েছে, বৈষম্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে। এর ফলে জনঅসন্তোষ থেকে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পেছনেও দমন-পীড়ন বড় কারণ। গ্রাফিতিতে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতাসীনরা ডানপন্থী ও বৈষম্যবাদী শক্তি।’
জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হয়েছে। সংখ্যালঘু, মাজার ও বামপন্থীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকে ভুয়া মামলা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। জামায়াত ও এনসিপিও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়েছে, অসম বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তিও বহাল রয়েছে।’
মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক শোষণের পাশাপাশি অসম্মানও করা হচ্ছে। জনগণকে ক্ষমতায়িত করাই বাম রাজনীতির প্রধান দায়িত্ব।’
মাসুদ রানা বলেন, ‘সরকার বদলালেও রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী কাঠামো বহাল রয়েছে। জনগণকে সচেতন ও সংগঠিত করে আন্দোলনের শক্তি গড়ে তুলতে হবে।’


