থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগ প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা বা প্রাক-বৈবাহিক স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
শুক্রবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো দম্পতির দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তাহলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি জটিল রোগ থেকে রক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সহায়তার জন্য থ্যালাসেমিয়া সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পাশে দাঁড়াতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান।
রক্তদাতাদের অবদানের প্রশংসা করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেক তরুণ নিয়মিত রক্ত দিয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। একজন তরুণ ৪১ বার এবং আরেকজন ৩৮ বার রক্ত দিয়েছেন—তাদের মতো স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যখন গ্রাম-গঞ্জে ছুটে যেতেন, সঙ্গে করে ডাক্তার নিয়ে যেতেন। সেইসঙ্গে তিনি মানুষকে সচেতন করার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলতেন। যাতে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং সুস্থ জাতি গঠন করা যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের মতো জটিল রোগ বাড়ছে। রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশি কার্যকর।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী ব্যক্তি ও রক্তদান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনসহ অনেকে।


