আগামী এক বছরে কক্সবাজার জেলায় ৪১ লাখ ২০ হাজার ৯৫০টি চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরমধ্যে টেকনাফ ও উখিয়াতেই রোপণ হবে ২৭ লাখ ৫৬ হাজার ১০০টি চারা।
বন বিভাগ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে বন, বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার হবে।
বনবিভাগ জানিয়েছে, টেকনাফ রেঞ্জের মুচনী বিটে ২০ হেক্টরে ৫০ হাজার, হ্নীলা বিটে ৬০ হেক্টরে এক লাখ ৫০ হাজার ও মধ্য হ্নীলা বিটে ১০০ হেক্টরে ২ লাখ ৫০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
শীলখালী রেঞ্জের শীলখালী সদর বিটে ৪০ হেক্টরে এক লাখ, মাথাভাঙ্গা বিটে ৪০ হেক্টরে এক লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
হোয়াইক্যং রেঞ্জের হোয়াইক্যং বিটে ১৯০ হেক্টরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার, মনখালী বিটে ৩০ হেক্টরে ৭৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বনবিভাগ।
উখিয়া উপজেলার উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটে ১৫০ হেক্টরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার, দোছড়ি বিটে ৫০ হেক্টরে এক লাখ ২৫ হাজার ও উখিয়া সদর মধুরছড়া বিটে ৬০ হেক্টরে এক লাখ ৫০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। রাজারকুল রেঞ্জের উখিয়া উপজেলার পাগলিরবিল বিটে ৫০ হেক্টরে এক লাখ ২৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।
ইনানী রেঞ্জের রাজাপালং বিটে ৫০ হেক্টরে এক লাখ ২৫ হাজার, জালিয়াপালং বিটে ৫০ হেক্টরে এক লাখ ২৫ হাজার ও ইনানী সদর বিটে ৫০ হেক্টরে এক লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়। তাছাড়াও চোয়াংখালী বিটে ৯০ হেক্টর বনভুমিতে ২ লাখ ২৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম উপকুলীয় বন বিভাগের আওতায় টেকনাফের হ্নীলা বিটের জাদীমুড়া থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত বাঁধ বনায়নে এক লাখ ও চৌধুরীপাড়া এলাকায় এক লাখ ১১ হাজার ১০০টি ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের কাজ চলমান রয়েছে।
বনবিভাগ জানিয়েছে, চারা রোপণের ক্ষেত্রে ফলজ ও ঔষধি গাছকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। অর্জুন, হরতকি, বহেরা, চিকরাশি, জারুল, কাজলভাদী, গর্জন, সিভিট, পলাশ, বকুল, সিলকড়ি, চাকুয়া, কড়ই, সেগুন, গামার, ধারমারা, সোনালো, কৃষ্ণচুড়া, ছাতিয়ান, কাঞ্চন, বুদ্ধ নারিকেল, শিমুল, বক্সবাদম, কাঠবাদাম, আমলকি, জলপাই, কালোজাম, পুতিজামসহ ৫৬টি বিপন্ন প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদের চারা রোপণ হচ্ছে।
২০১৭ সালে টেকনাফ-উখিয়ায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে পাহাড়ি জনপদ, সবুজ এই বনভূমি অনেকটা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। ডাকাতি, অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের কারণে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়গুলো রীতিমত আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ফলে পাহাড়গুলো এখন নির্জন এবং নিরবতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণে নতুন ভাবে লাগানো বাগান অক্ষুণ্ন এবং দীর্ঘমেয়াদি থাকবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, ‘ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের এসব চারা বড় হয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করবে, পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রোহিঙ্গাদের হাতে বন, বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে নতুন এই বাগান সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।


