জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আয়োজন করাসহ পাঁচ দফা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে বৃহস্পতিবার এবং পরদিন শুক্রবার দেশের সকল বিভাগীয় শহরে এবং দেশের সকল জেলা-উপজেলায় ২৬ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
পাঁচ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
নায়েবে আমির বলেন, ‘আমরা সংসদের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষ উভয় ক্ষেত্রেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বাস্তবায়ন চাই। রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পিআর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।’
‘বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। এমতাবস্থায় জনগণের দাবি আদায়ের জন্য গণআন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তাই আমাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি’ বলেও জানান তিনি।
সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকরের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একইদিন বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করবে দলটি। পরদিন শুক্রবার ও ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে খেলাফত মজলিস।
সমমনা আরও কয়েকটি দল প্রায় একই ধরনের দাবি নিয়ে কর্মসূচি দেওয়ার প্রসঙ্গে তাহের বলেন, ‘যেহেতু দাবি এক, প্রত্যেকেই তার নিজের মতো করে কর্মসূচি পালন করবে। এখনো এটি যুগপৎ বলছি না।’
‘একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা অন্যায় হয়েছে,’ এমন অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা বলেন, ‘কালো টাকার ব্যবহার, পেশিশক্তিসহ নির্বাচনী অনিয়ম বন্ধে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। আমরা লক্ষ্য করছি, মানুষের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তাই গণআন্দোলনের বিকল্প নেই।’
‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো না, একথা কখনো বলছি না। বরং আমরা বলছি, আমাদের দাবি মেনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য। আমরা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দাবি জানাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
তাহের বলেন, ‘অন্য দলের দাবি যৌক্তিক হলে সেটা মানতে বলবো। আমাদেরটা যৌক্তিক হলে আমাদেরটা মানতে বলবো। যুক্তিই ঠিক করবে কোনটা যৌক্তিক। পিআরে ভোট দিতে কোনো জটিলতা নেই, বিদ্যমান পদ্ধতির মতোই। কিন্তু জনগণের মধ্যে পদ্ধতিগত জটিলতা থাকবে না।’
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির আগে আরো ৫ মাস আছে, এর মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ সম্ভব।’
নির্বাচন পেছাতেই জামায়াত বিভিন্ন দাবি তুলছে, বিভিন্ন দলের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এটা তাদের জিজ্ঞাস করেন, কী প্রমাণ আছে আমরা নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছি?’


