স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হুঁশিয়ারির পরও সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকার মানুষ। পরে আন্দোলনকারীরা ভাঙ্গা থানায় ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর এবং উপজেলা পরিষদে আগুন দিয়েছে। পূর্বঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের জোর নিরাপত্তার মধ্যেই দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমরা পাশে আছি। কিন্তু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে প্রতিরোধ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিএ কামাল হোসেন জানান, বেলা ১২টার দিকে ওই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার আন্দোলনকারী উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ইউএনওর অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা একে একে প্রতিটি দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে জরুরি জিনিসপত্র ও কম্পিউটার নিয়ে যায়। পরে তারা সেখানে আগুন দেয়। আমরা জীবন ভিক্ষা চেয়ে পালিয়ে বেরিয়েছি।’

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ করার কর্মসূচি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অবস্থানের কারণে সকাল থেকে সড়কে নামতে পারেননি আন্দোলনকারীরা।
তবে সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গার দক্ষিণপাড়ে এবং ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের আলগী ইউনিয়নের ছোঁয়াদীতে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে মহাসড়ক দুটিতে বেশ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যান যানবাহন চলাচল।
রোববারই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় জনগণের আন্দোলন কোনভাবেই কাম্য নয়।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়৷ তারা যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে সবকিছু শোনার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই এলাকার জনগণের যে অভিযোগ সেটা তারা যথাযথ চ্যানেলে আবেদন করতে পারে। কোনোভাবেই রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। রাস্তা অবরোধ করার অধিকার কারো নেই।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ‘রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন আর কোনো অবস্থায় বরদাশত করা হবে না৷ তারা যদি আজকের মধ্যে অবরোধ তুলে না নেয়, সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন প্রয়োগ করতে বাধ্য হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোর ৬টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হয়। সকাল ১১টার আগ পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ১১টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়ে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার মুখে টায়ার জ্বালিয়ে এবং সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ এলাকায় নারীরা ঝাড়ু মিছিলে অংশ নেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি যাতে জনভোগান্তি না হয়। তবে আন্দোলনকারীরা অধিক সংখ্যায় এসে সকাল ১১টার দিকে দুটি মহাসড়ক আটকে দেয়।’
ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে সরিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে রোববার থেকে তিনদিনের সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও রেল অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে স্থানীয়রা।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিককে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং একশ থেকে দেড়শ অজ্ঞাতনামা আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে পুলিশ।


