দক্ষিণ আফ্রিকার ধারাভাষ্যকার কাস নাইডু বললেন, তার ২০ বছরের ব্রডকাস্টিং জীবনে এমন ম্যাচ আর দেখেননি। সাবেক প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেইন জানালেন, তার দেখা সবচেয়ে ভালো ম্যাচ এটাই। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে সুপার ওভারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হলেও এক ম্যাচে টানা দুই সুপার ওভার দেখেননি কেউ।
বুধবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের লক্ষ্য ছিল ১৮৮। ইনিংসের ২ বল বাকি থাকতে অল আউট হওয়ারে আফগানদের স্কোর সমান হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
প্রথম সুপার ওভারে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাটিং বীরত্বে প্রোটিয়াদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭ রানের। ছক্কা মেরে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের উইকেট হারালেও ত্রিস্তান স্টাবসের শেষ বলের ছক্কায় আবারও টাই হয় ম্যাচ। দ্বিতীয় সুপার ওভারে স্টাবসের এক ছক্কার সাথে ডেভিড মিলারের টানা দুই ছক্কায় আফগানদের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য হয় ২৪।
সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই আউট হন মোহাম্মদ নবী। চার বলে ২৪ রানের সমীকরণ সামনে রেখে উইকেটে আসেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। কেশব মহারাজকে লং অফ, লং অন আর ডিপ মিড উইকেটে টানা তিন ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তোলেন আগে ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলা রহমানউল্লাহ গুরবাজ। শেষ বলে ওয়াইড করায় সম্ভাবনা জাগে আরো একটা সুপার ওভারের। পরের বলে গুরবাজের উইকেট নেয়াতে অবশ্য আর সেই পথে যায়নি ম্যাচের ভাগ্য। ৪ রানে সুপার ওভার জিতে স্বস্তি পায় প্রোটিয়ারা। কিন্তু হৃদয় ভাঙা হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আফগানদের।
এই ম্যাচ হারাতে এখনো প্রোটিয়ারা অজেয়ই রইল রশিদ খানদের সাথে। এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে তাদের হারাতে পারেনি আফগানিস্তান।
দুই দফায় সুপার ওভারের নাটকীয়তার আগেও দফায় দফায় বদলেছে ম্যাচের দৃশ্যপট। ১৮৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তানের জয়ের জন্য হাতে এক উইকেট রেখে প্রয়োজন ছিল ১৩ রানের। সেই ওভার কাগিসো রাবাদা শুরু করেন নো বল দিয়ে, পরের বলে ওয়াইড। প্রথম বৈধ বল ডট দিলেও দ্বিতীয় বলে বিশাল এক ছক্কা হজম করেন নূর আহমাদের কাছে।
পরের বল ডট হলে আরো জমে ওঠে লড়াই। তবে শেষটার জন্যই যেন অপেক্ষা করে ছিল সব নাটকীয়তা। চতুর্থ বলে নো বল করে বসেন আবার রাবাদা। সেই বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন ফজল হক ফারুকী। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
রান তাড়ায় নেমে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি এলেও পরের ১ রান যোগ হতেই তিন উইকেট হারায় আফগানিস্তান। টপ আর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে আলো ছড়ান গুরবাজ। ৭ ছক্কা আর চারটি চারে ৪২ বলে ৮৪ রান করেন এই ডানহাতি ওপেনার।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কুইন্টন ডি ককের ৫৯, রায়ান রিকেলটনের ২৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।


