বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় ১৬২ রানের মধ্যে। চা-বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ যেখানে দিন শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখছিল, সেখানে বাধ সাধেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। বাংলাদেশের নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদদের সামলে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ১৩৪ রানের জুটি।
শেষ বিকেলে অবশ্য তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে সেই প্রতিরোধ ভেঙেছে। ৭ উইকেট পড়েছে ৩১৬ রান তুলতে। শেষদিন জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান আর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিরিজ জিততে বাংলাদেশের দরকার ৩ উইকেটে।
দিনের শেষ সেশনে সালমান-রিজওয়ানের জুটি চড়ে বসেছিল বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। তিন পেসারের সাথে স্পিন আক্রমণও ফিকে মনে হচ্ছিল তাদের সামনে। ২২৪ বল মেয়াদী সেই জুটি অবশ্য ভেঙেছে তাইজুলের দারুণ এক টার্নিং ডেলিভারিতে সালমান বোল্ড হওয়াতে। সিলেটের ভাঙতে থাকা উইকেটে ইনিংসের ৮২-তম ওভারের পঞ্চম বলটা টার্ন করে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে উপড়ে দেয় ৭১ রানের ইনিংস খেলা সালমানের স্টাম্প। শেষ হয় বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ‘
এখানেই শেষ নয়, এক ওভার পর আক্রমণে ফিরে হাসান আলীকেও ফেরান তাইজুল। গুড লেন্থে পিচ করা বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৩১ ওভারে ৩ মেইডেনসহ ১১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। রিজওয়ান অপরাজিত আছেন ১৩৪ বলে ৭৫ রানে।
এর আগে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দিনের অষ্টম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। নাহিদের তুমুল গতির শর্ট লেন্থের বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে এলবিডব্লিউ করে দ্বিতীয় উইকেট নেন সেই মিরাজই।
এরপর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক শানের সাথে ১১৫ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন আগের ইনিংসে ফিফটি করা বাবর। বড় হতে থাকা জুটি ভেঙেছেন তাইজুল। এই বাঁহাতি স্পিনারের করা লেগ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যেতে থাকা বলে ব্যাট ছুঁইয়ে বসেন বাবর, দারুন রিফ্লেক্সে ক্যাচ ধরেন লিটন দাস। ৫২ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটার।বাঁহাতি শানও ফিরেছেন তাইজুলের বলেই।
গুড লেন্থ থেকে লাফিয়ে ওঠা বলে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দেন ১১৬ বলে ৭১ রান করা পাকিস্তানি অধিনায়ক। এরপর দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে সৌদ শাকিলকে ফিরিয়েছেন নাহিদ রানা। সব মিলিয়ে মাত্র ২৯ রানের মধ্যে পড়ে ৩ উইকেট। মিডল অর্ডারের ধস সামলে ৩৮ রানের জুটিতে লড়ছেন শেষ স্বীকৃত দুই ব্যাটার সালমান আলী ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
এর আগে ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ১৪তম সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ৩৯০ রানে থামে বাংলাদেশ। লিড দাঁড়ায় ৪৩৬। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন লিটন দাস, বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮। জবাবে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে।


