নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে নারীপ্রধান পরিবারের জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৩ জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪ নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন অবস্থা ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে।
স্বজনপ্রীতি বা মানবিক হস্তক্ষেপ এড়াতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি)’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী পরিবার বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
আধুনিক স্মার্টকার্ড ব্যবস্থা
সরকার জানায়, উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডগুলো হবে আধুনিক ও নিরাপদ। এতে কন্টাক্টলেস চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। তবে বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে এই ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি অর্থ
জি-টু-পি (সরকার থেকে ব্যক্তি) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে। এতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থাকবে না।
মন্ত্রণালয় জানায়, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে, অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিংবা বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এয়ার কন্ডিশনার থাকলে সেই পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে না।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৩৮ দশমিক শূন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাকি অর্থ ব্যয় হবে কার্ড তৈরি ও সিস্টেম উন্নয়নে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা ইতোমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।


