রাজধানীতে দুই ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকাগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে হওয়া এই বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি জমেছে ধানমন্ডি, আজিমপুর, নীলক্ষেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কারওয়ান বাজার, গ্রিন রোড, মিরপুর এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন সড়কে।
বৃষ্টির পানি রাস্তায় জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে এবং কোথাও কোথাও পানি বেশি বেড়ে যাওয়ায় ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়েছে।
আজিমপুর, নীলক্ষেত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত পানির নিচে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি ছিল। কারওয়ান বাজারে জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। গ্রিন রোড এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি, সি ও ডি ব্লকের পাশাপাশি ৩০০ ফুট সড়ক থেকে বসুন্ধরায় প্রবেশের পথটি পানির নিচে চলে যায়। ফলে সেখানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও এআইইউবি সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
স্থানীয় তাহসীন নওয়ার প্রাচী জানান, ভারী বৃষ্টির ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রিকশাও পাওয়া যায় না। এমনকি পানির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে রাস্তায় আটকে পড়ে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সিরাজগঞ্জে ৪৫ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৩২ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দেশের আরেকটি কেন্দ্রে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
তিনি জানান, ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলার মধ্যে মূলত ঢাকা, ফরিদপুর ও মানিকগঞ্জে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের সব অঞ্চলে বিস্তার লাভ করায় অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক জলাধার দখল এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঢাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে সামান্য সময়ের বৃষ্টিতে সড়ক ডুবে যাওয়ার এই চিত্র রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।
আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় রাজধানীর নিম্নাঞ্চল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


