মাঠে বল গড়াচ্ছে পায়ে পায়ে, আর মাঠের বাইরে বিশ্বফুটবল বিভক্ত হয়ে পড়েছে দুটি মহাক্ষমতাধর শিবিরে। একপাশে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা, অন্যপাশে হোয়াইট হাউসে বসা ‘বিশ্ব রাজনীতির অধিপতি’ ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এবারের লড়াইটা কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সংঘাত নয়, বরং ট্রাম্প ও ফিফার দুটি ভিন্ন দলকে প্রকাশ্যে ও আড়ালে-আবডালে সমর্থন দেওয়ার এক দারুণ যুদ্ধ। একদিকে ট্রাম্পের আকস্মিক ‘ইংল্যান্ড প্রীতি’, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফিফার আকাশী-নীল ‘আর্জেন্টিনা প্রেম’–সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ মাঠের চেয়ে টেবিলের রাজনীতিতেই বেশি জমে উঠেছে।
স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পর সবাই ভেবেছিল ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো ফুটবলের খাতা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন এখন তাদের সাবেক ঔপনিবেশিক প্রভু ‘থ্রি লায়ন্স’ নামের ইংল্যান্ডের দিকে!
অবশ্য ট্রাম্প যে ফুটবলে কতটা প্রভাব রাখতে পারেন, তা টুর্নামেন্টের শুরুতে টের পাওয়া গেছে। মার্কিন এক ফুটবলার লাল কার্ড দেখার পর ট্রাম্পের এক ফোনে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই মহাশক্তিশালী ট্রাম্পের সমর্থন যখন এখন ইংল্যান্ডের পিঠে, তখন মাঠের রেফারিরাও হ্যারি কেনদের ফাউল ধরতে দুবার ভাববেন কি না–তা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় রসালো আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। নিন্দুকেরা বলছেন, ট্রাম্প এবার ইংল্যান্ডের ফুটবলকে ‘মেক ব্রিটেন গ্রেট এগেইন’ করার মিশনে নেমেছেন!
ট্রাম্প যখন ইংল্যান্ডের পতাকা ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ফিফা সদর দপ্তরের বাতাসে ভাসছে অন্য সুবাস। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফুটবল বিশ্বে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা, ফিফা নাকি এবার আর্জেন্টিনার প্রতি একটু বেশিই দুর্বল!
ফুটবল মহলের টিপ্পনী
মাঠের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে রেফারিং–সবখানে নাকি আলবিসেলেস্তেদের জন্য এক অদৃশ্য সুবিধার জাল বিছিয়ে রেখেছে ফিফা। গুঞ্জন উঠেছে, ফিফা মনে-প্রাণে চাইছে ট্রফিটা এবার আর্জেন্টিনার ঘরে যাক। এই ‘নীল-সাদা’ পক্ষপাতিত্বের গুঞ্জন এখন এতটাই চড়া যে, খোদ ফুটবল বোদ্ধারা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে হাসাহাসি করছেন।
ফুটবলপ্রেমীরা এখন হিসাব কষছেন এক অদ্ভুত সমীকরণের। একদিকে ফিফার আশীর্বাদপুষ্ট আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সমর্থনপুষ্ট ইংল্যান্ড। দুই দলের লড়াই যত এগিয়ে আসছে, এই দুই পরাশক্তির একটি প্রকাশ্য আর অন্যটির অদৃশ্য সমর্থন তত প্রকট হচ্ছে।
অবশ্য এই দুই দলের ফাইনাল খেলার কোনো সুযোগ নেই। সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। আর সেখানেই বিদায় নেবে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থনের ইংল্যান্ড কিংবা ফিফার অদৃশ্য সমর্থনপুষ্ট আর্জেন্টিনা।
শেষ পর্যন্ত ফিফার প্রিয় পাত্র আর্জেন্টিনা শেষ হাসি হাসবে, নাকি ট্রাম্পের প্রিয় দল ইংল্যান্ড বাজিমাত করবে–তা দেখতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল দুনিয়া!


