মানহীন ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে রাজধানীর তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান গত ১৮ জানুয়ারি সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রডাক্ট, আদি নান্না বিরিয়ানী হাউজ ও মিষ্টির কারখানা এবং এশিয়ান প্লাস বিস্কুট কারখানার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন আদি নান্না বিরিয়ানি হাউস ও মিষ্টির কারখানার মালিক মো. ওমর ফারুক, সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টের মালিক আজাদ মো. সাদেকুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম এবং এশিয়ান প্লাস বিস্কুট কারখানার মালিক মো. তারেক খন্দকার।
খাদ্য পরিদর্শক জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত আদি নান্না বিরিয়ানি হাউস ও মিষ্টির কারখানা পরিদর্শনকালে মিষ্টি তৈরিতে নাম-ঠিকানাবিহীন বিষাক্ত রঙ ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এ ছাড়া মান ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় খোলা রসগোল্লার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।
আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরীক্ষায় এসব মিষ্টি মানসম্পন্ন নয় বলে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ৪ জানুয়ারি পাওয়া পরীক্ষার ফলাফলে দুগ্ধ চর্বির পরিমাণ পাওয়া যায় ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যেখানে নির্ধারিত ন্যূনতম মান ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে সুক্রোজের পরিমাণ নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের পরিবর্তে পাওয়া যায় ৫৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।
অন্যদিকে, ডেমরার খোলাপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত এশিয়ান প্লাস বিস্কুট কারখানা পরিদর্শনে গত ১ জানুয়ারি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেখতে পায়, অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রুটি, বিস্কুট ও কেক তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া উৎপাদনে বিষাক্ত রঙ ও ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। কারখানার মালিকের ভাগিনা সেখানে উপস্থিত থাকায় তার ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
এ ছাড়া ১১ জানুয়ারি ২০২৬ বাসাবোর সবুজবাগ এলাকায় অবস্থিত সালাম ডেইরি ফার্ম অ্যান্ড ফুড প্রডাক্ট পরিদর্শনকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নাম–ঠিকানাবিহীন প্লাস্টিকের কৌটায় রাখা দুই ধরনের বিষাক্ত কেমিক্যাল রঙ ব্যবহার করে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে আসছিল। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ৭২ ধারায় মালিকদের অপরাধের বিষয়ে ভিডিও স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে এবং নাম–ঠিকানাবিহীন বিষাক্ত কেমিক্যাল রঙ ব্যবহার না করার জন্য একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনটি মামলারই পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।


