কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তাকে মেরে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ে আঘাত করে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আহত জামাল উদ্দিন (৪০) টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সংবাদকর্মী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে চা খাচ্ছিলেন জামাল উদ্দিন। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় আসা পাঁচ থেকে সাতজন মুখোশধারী ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপহরণের কিছুক্ষণ পর আশপাশে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সিএনজি অটোরিকশাটি হ্নীলা দরগাহ এলাকার পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোচিত পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত ডাকাত আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘লেড়াইয়া’র নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র দল জামাল উদ্দিনকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পা জখম করে। একপর্যায়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আনোয়ার ডাকাত নামে পরিচিত ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি হ্নীলা ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্য, রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল মেম্বারের ছেলে এবং কথিত মাদক কারবারি শাহ আজম সরকারকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে শাহ আজম সরকার চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা নুর কামাল তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ‘সাবেক ইউপি সদস্য ও সংবাদকর্মী জামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে হ্নীলা মেমোরিয়াল কলেজের পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছেন। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামরি কোনাপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে অপহরণ, ডাকাতি, হত্যা ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় মাদক কারবার, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কথিত আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি হারুন, জালাল আহমদ ওরফে লাশ জালাল, মো. আলম ওরফে শফিয়া, মোস্তাক, মিজান ওরফে লম্বা মিজান, গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম, সাইফুল ওরফে মাথা সাইফুল, আবুল আলম, আতর সাইফুল ইসলামসহ প্রায় ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘হ্নীলায় সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।


