কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করে।
এ মামলায় সাবেক এমপি বদিসহ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার অন্য আসামি পলাতক। তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর রুহুল আমিন এবং সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব ও আশিকুর রহমান। তাদের পক্ষে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেয় আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলী এলাকার একটি সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।
একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুল হককে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা এবং ওই অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।
গত ২৬ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।


