সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আত্মহত্যার চেষ্টায় শিশু আহত

সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আত্মহত্যার চেষ্টায় শিশু আহত
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাজীপুরের শ্রীপুরে ফুটপাত থেকে নির্জন স্থানে নিয়ে দুই সন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জেরে ওই নারী আত্নহত্যা চেষ্টা করলে গাড়ির নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে তার শিশুসন্তান। ঘটনা জানাজানি হলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত পান ব্যবসায়ী।

শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার পানের আড়ৎ সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কুলসুম আক্তারের (ছদ্মনাম) (২৭) বাড়ি উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে। অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন (৩৫) নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা। তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পান ব্যবসা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, বছর খানের আগে স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি বাসা ভাড়া নিয়ে পাশের জৈনা বাজার এলাকায় থাকতেন। কিন্তু ভাড়া বকেয়া পড়ায় তাকে বাসা থেকে বের করে দেন বাড়ির মালিক। রাতের দিকে তিনি আশ্রয় নেন মাওনা চৌরাস্তা এলাকার উড়াল সেতুর নিচের ফুটপাতে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত সোহরাব তাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে পাশের পানের আড়ৎ সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে দুই শিশুসন্তানের সামনে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

আরও পড়ুন

এসময় নারীর দুই সন্তানের চিৎকারেও থামেনি অত্যাচার। একপর্যায়ে সোহরাব হোসেন পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে বুধবার সকালে পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজনকে জানালে টাকা দিয়ে রফাদফা করার চেষ্টা করে গৌতম ও শহীদ নামে দুই পান ব্যবসায়ী। এরপর ওই নারী বুধবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন গাড়ির নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তার বড় সন্তান।

তিনি আরও জানান, ‘গত দুদিন থানা পুলিশ এমনকি কাউকে না জানাতে হুমকি ধামকি দিয়েছে অভিযুক্ত। জানালে সন্তানদের মেরে ফেলবে বলে। একারণে ভয়ে কিছু বলিনি। এখন ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবাই ঘটনা জেনে যায়।’

পানের আড়ৎদার মহসিন আলী বলেন, ‘সোহরাব বেশ কয়েক বছর এখানে ব্যবসা করে। ঘটনাটি আলোচনায় এলে সে পালিয়ে যায়। নারী এমন অভিযোগ করছেন, বিষয়টি আমরা শুনছি।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তথ্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। নারীকে ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad