বিরোধী দলের কিছু নেতা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অশোভন ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলগুলোর রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীকে অশোভন ভাষায় আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১১ দলীয় জোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরোধিতা করছে। তবে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন, কথা বলা ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে।
বিরোধী দল আয়োজিত দুটি লংমার্চ কোনো বাধা ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কর্মসূচি পালন ও কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তারা কথা বলুক। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের আপত্তি অন্য জায়গায়।’ রিজভীর মতে, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবে। তিনি বলেন, ‘যা বলবেন, সত্য বলবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কিন্তু যখন সেটা ‘তুই-তুকারি’তে চলে আসে, তখন সেটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা নিয়ে এক বিরোধী নেতার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করা তার মতে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংস্কৃতির’ মতো।
তিনি আরও বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ও খালেদা জিয়াকে একই ধরনের ভাষায় সম্বোধন করতেন। রিজভী জানান, এ ধরনের ভাষা নিয়ে তার সঙ্গে সাধারণ মানুষও গভীরভাবে বিরক্ত ও কঠোরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাওয়ায় বিএনপিকে এর জবাব দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তর অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ভাষায় নয়। বরং মার্জিতভাবে কঠোর ও দৃঢ় ভাষায় কথা বলেছি।’
কঠোর সমালোচনা করলে, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায় এবং বিএনপি সেটিই করার চেষ্টা করছে, যোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা নয়, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও কিছু বিষয়ে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বা বোঝাপড়া থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে ‘গণতন্ত্রের কথা বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না।’


