লেবাননে ইসরায়েলের কিছু সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ধ্বংস এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্বের সমালোচনা করে তিনি এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরেক দফা সরাসরি বৈঠকের কয়েক দিন আগে সোমবার এ মন্তব্য করেন তুর্ক। এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো লেবানন সফরে তিনি দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সঙ্গে দেখা করেন।
আগামী সপ্তাহে রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৬ জুন হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ এই সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিরস্ত্রীকরণে আপত্তি জানিয়েছে।
ভলকার তুর্ক বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের কিছু কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। শহর ও গ্রামের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং বহু চিকিৎসাকর্মী ও সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনার সঙ্গেও তিনি একমত পোষণ করেন। বেসামরিক মানুষের বসতবাড়ি ধ্বংসকে তিনি ‘ব্যাপক ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ বেসামরিক মানুষের মধ্যে অবস্থান নেয়। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকায় অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল লেবাননের এই সংঘাত শুরু হয় ২ মার্চ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ফেব্রুয়ারির ইরান হামলার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এতে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন শহর ও গ্রাম এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে।
উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোতে হিজবুল্লাহর হামলারও সমালোচনা করেন ভলকার তুর্ক। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


