বাংলাদেশিদের মেধা কোনো অবস্থাতেই কম নয়: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশিদের মেধা কোনো অবস্থাতেই কম নয়: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশিদের মেধা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বের অন্য কোনো দেশের নাগরিকদের চেয়ে কম নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের মেধা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বের অন্য কোনো নাগরিকের চেয়ে কম নয়। উন্নত বিশ্বের মানুষের যে মেধা রয়েছে, আমাদেরও তা রয়েছে।’

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এমজিআই-এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (এমএএ)-এর যৌথ উদ্যোগে এক দশকের পথচলার অংশ হিসেবে এই বৃত্তির আয়োজন করা হয়।

‎শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া থাকাকালীন রিসার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি তার সঙ্গে লন্ডনে দেখা করতে গেলে তিনি আমার হায়ার স্ট্যাডিজ টপিক দেখে বললেন, ভেবেছিলাম কোনো একদিন সুযোগ পেলে আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ে কাজ করাব, কিন্তু আপনার টপিক দেখে ভাবলাম আপনাকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। পরবর্তীতে তিনি আমার টপিক কেটে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং (টিভিইটি) লিখে দিলেন। এটিই হচ্ছে তার দূরদর্শিতা।’

‎এ সময় শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের কাউকে মেধা দিয়ে ঠকাননি। উন্নত বিশ্বের মানুষের যে মেধা রয়েছে, আমাদেরও তা আছে। চীন যেমন নিজেদের চেষ্টায় উন্নত হয়েছে, আমরাও আমাদের দেশকে সেভাবেই উন্নত করব।’

‎‎দেশে একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে দূরত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‍দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বড় বড় কোম্পানিগুলো একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির লিংকেজের ওপর তেমন গুরুত্ব দেয় না।’

আরও পড়ুন

‎​এ সময় চীনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে। ইন্ডাস্ট্রির ইঞ্জিনিয়াররা শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন, আবার শিক্ষার্থীরা সেখানে কাজ শিখছে। আমাদের দেশেও এমন লিংকেজ প্রয়োজন।’

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) শিক্ষাবৃত্তির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি অন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা বা ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর অ্যালামনাই এবং সমাজ যখন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে এক সঙ্গে দাঁড়ায়, তখনই তা পূর্ণতা পায়। শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি টাকার স্কলারশিপ ফান্ড গঠন করায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এটি শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা।’

‎​বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য অ্যালামনাই ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি ‘সেন্ট্রাল ফান্ড’ গঠনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সরকারের টাকায় চলতে পারে না। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা গবেষণাসহ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছি। আমি মেঘনা গ্রুপসহ দেশের সফল ব্যবসায়ী ও অ্যালামনাইদের আহ্বান জানাই—আপনারা শুধু একটি বিভাগের জন্য নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেন্ট্রাল ফান্ড গঠনে এগিয়ে আসুন। এই ফান্ডের মাধ্যমে আমরা গবেষণায় ইনসেনটিভ দেওয়া, ল্যাব তৈরি করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও কল্যাণে সহায়তা করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা গ্রুপের ডিরেক্টর তাসনিম মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রোভিসি (শিক্ষা) আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের আহ্বায়ক ও মার্কেটিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোর্শেদ হাসান খান, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad