নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক হবে।
চলতি মাসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ভূমিধস জয় পান ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি। নির্বাচনের পর এটিই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এবং মামদানি ২১ নভেম্বর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাক্ষাতের বিষয়ে একমত হয়েছি। এটি সত্যিই ঘটছে।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আগামী ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন জোহরান মামদানি। ট্রাম্প ও মামদানি দুজনই একে অপরের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও ট্রাম্প প্রকাশ্যে মামদানির বিরোধিতা করেন এবং রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে সমর্থন দেন।

এখানেই ক্ষান্ত হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভোটের আগে তিনি হুমকি দেন, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক সিটির জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল অর্থও আটকে দেবেন।
নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের (অর্থ বরাদ্দের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) হিসাবে, আগামী অর্থবছরে শহরটি ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাজেটের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ পাবে।
নিউইয়র্ক হাত ছাড়া হওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শহর ট্রাম্প প্রশাসনের নজরদারি থেকে সরে যাওয়া বলে মনে করেন ট্রাম্প। এমনকি মামদানির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে তাকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে রিপাবলিকান পার্টি ও ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ২৪০ কোটি ডলার ব্যয় করে।
অন্যদিকে, মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সমর্থনের প্রকাশ্য সমালোচক। ‘নিউইয়র্ক অভিবাসীদের শহর’ ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ঘোর বিরোধিতা করেন এই মুসলিম ধর্মাবলম্বী ডেমোক্র্যাটিক নেতা। জয়ের পর তিনি বিজয়ী বক্তব্যেও ট্রাম্পের প্রতি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামদানি জানান, তার দল হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কারণ তিনি ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পথ খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অবশ্য ট্রাম্প বৈঠকের ঘোষণা দেওয়ার পর মামদানি বা তার দল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের একজন মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটনে আলোচনায় জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।


