নেপালের কাঠমান্ডুতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উপলক্ষে বসন্তপুরে অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিনিময় কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশ-নেপাল ফটো জার্নালিস্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে নেপালের ‘ন্যাশনাল ফোরাম অব ফটো জার্নালিস্টস’ এবং ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
দুই দেশের বন্ধুত্ব, পেশাগত সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও পর্যটন বিকাশে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান আলোকচিত্রকে যোগাযোগ ও অনুভূতির শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দরবার স্কয়ারের মতো ঐতিহাসিক স্থানে এই আয়োজন নেপালি দর্শনার্থীদের বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও প্রত্যাশার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক দূরত্বের অভাব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে নেপালে পর্যটক বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হলো জনগণের মধ্যকার গভীর যোগাযোগ।
সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করতে রাষ্ট্রদূত দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন:
বার্ষিক বিনিময় কর্মসূচি: দুই দেশের আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সংগীতশিল্পী, লেখক ও শিল্পীদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে পর্যায়ক্রমে যৌথ প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, চলচ্চিত্র উৎসব, আলোকচিত্র আদান-প্রদান ও কর্মশালার আয়োজন করা।
ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও আধুনিক গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্রের তথ্য প্রচার করা। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান দুটিকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, এই প্রদর্শনী দুই দেশের মানুষের সুসম্পর্ক, দ্বিমুখী পর্যটন ও পেশাগত বন্ধুত্বকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক, চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালকসহ নেপাল ও চীনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত চায়না সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আয়োজিত পৃথক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে অংশ নেন। সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং অতিথিদের সঙ্গে প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।


