নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধি তৈরি করা কঠিন কাজ নয়, বরং দলগুলো কতটা দায়িত্বশীল সেই বিধি মেনে চলবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একা নয়; সব দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই জনগণের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।’
বুধবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনে স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি জানান, এরইমধ্যে নির্বাচনি আচরণবিধি চূড়ান্ত হয়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের জন্য এর কঠোর প্রতিপালন অত্যন্ত প্রয়োজন।
দিনের প্রথম ভাগে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন। সিইসি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এবার নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বিস্তৃত সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়া প্রকাশের পর দল, নাগরিক ও বিভিন্ন সংস্থার মতামত বিবেচনা করেই বিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
গত ১৫ বছরে ভোটারদের মধ্যে ভোটবিমুখতা তৈরি হয়েছে, আর এ পরিস্থিতি কাটাতে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নির্বাচন সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়েও বেশি। তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব বেশি হওয়ায় তাদের মাধ্যমে ভোটারদের উৎসাহিত করা সম্ভব। দল, ভোটার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করতে পারলে জাতির সামনে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।’


