ক্রেতা সংকটে ধস নেমেছে বগুড়ার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে। এতে হতাশা জানিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, ছাগলের চামড়া কেউ নিচ্ছে না। শহরের মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিনগুলো ছাগলের চামড়া দিয়ে ভরে উঠছে।
কোরবানির পশুর চামড়া বিপর্যয়ের পেছনে ট্যানারি মালিকেরা টাকা না দেওয়া এবং চামড়া কিনতে অনীহা দেখানোকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এক সময় কোরবানির ঈদ এলেই বগুড়ার চামড়ার বাজার জমে উঠত। ঈদের দিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো কেনাবেচার ব্যস্ততা। বিগত দিনের চেনা সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। বাজারে নেই ক্রেতার ভিড়, নেই বড় ব্যবসায়ীদের আগের মতো সক্রিয়তা।
এবার দুপুরের পর থেকে মৌসুম ব্যবসায়ীরা চামড় সংগ্রহ করে চামড়ার গুদাম, স্টেশন রোড, বাদুরতলা, চকসূত্রাপুর নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে দাম পাননি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। সেই অর্থ না পাওয়ায় অনেকের পুঁজি আটকে গেছে। পাশাপাশি লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চামড়া কেনাবেচায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনে শহরে এনে তারা বিক্রি করছেন মাত্র ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়।
এতে পরিবহন ও শ্রমিক খরচই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা। অনেকেই মূলধন হারানোর শঙ্কায় আছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খাসির চামড়ার অবস্থা আরও ভয়াবহ। বগুড়া শহরের বাজারে খাসির চামড়া বিক্রি হচ্ছে কেবল পাঁচ থেকে ২০ টাকায়। ঈদের বিকালের দিকে সেটিও পাওয়া যায়নি। ফলে দুর্গন্ধ ও চামড়া পচে যাওয়ার শঙ্কায় ছাগলের চামড়ার জায়গা হয়েছে শহরের ডাস্টবিনগুলোতে।
অথচ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ সব চামড়া ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কিনেছিলেন, ফলে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন তারা।
ক্রেতাদের মতে, গবাদিপশুর মধ্যে ল্যাম্পি রোগের প্রভাবে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে শুধু ভালো মানের চামড়া কেনা হচ্ছে। নিম্নমানের চামড়ার চাহিদা না থাকায় দামও পাওয়া যাচ্ছে না।
মৌসুমি ব্যবসায়ী মংলা মিয়া বলেন, ‘গ্রাম থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গাড়িভাড়া আর শ্রমিক খরচ দেওয়ার পর হাতে কিছুই থাকছে না।’
ব্যবসায়ী আসলাম বলেন, ‘আড়তদার কিনবেন সকালে বললেও বিকালে আর কিনছেন না। ব্যবসায়ীদের ফলে মাথায় হাত।’
আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী দিনে চামড়া ব্যবসায় আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
আড়তদার শহিদুল বলেন, ‘ট্যানারিগুলোর কাছে আগের পাওনা আটকে আছে, টাকা না পেলে বড় পরিসরে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।’
আরেক আড়তদার হোসেন মিয়া বলেন, ‘লবণের দাম বেড়েছে, সংরক্ষণ খরচও বেশি। বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।’


