লালবাগ থানার আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুরের পাশাপাশি জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ জোন ডিবির উপপরিদর্শক মোহসীন উদ্দিন শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
শিরীন শারমিনকে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টের হাজত খানায় রাখা হয়। এর আগে মঙ্গলবার সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, ‘শিরীন শারমিন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কুশীলব ছিলেন। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ মামলার পলাতকদের বিষয়ে তথ্য এড়িয়ে যান। তাকে তদন্তের স্বার্থে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এজন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হোক।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘শিরীন শারমিন ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ছাত্রদের ওপর গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনার সহকারী এবং বিনা ভোটে এমপি ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ মামলায় কারা জড়িত এবং হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতারা কে, তা জানতে রিমান্ড প্রয়োজন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার এবং এবিএম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আইনজীবীরা বলেন, ‘শিরীন শারমিন তখন পদত্যাগ করেছেন। আর কেউ পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তাকে এজাহারে ৩ নম্বর আসামি দেখানো ছাড়া কোনো তথ্য অভিযোগে নেই। মামলার ঘটনার সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, কিন্তু মামলা হয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসের ২৫ তারিখে। অর্থাৎ ১০ মাস সাত দিন পরে মামলা করা হয়েছে। তিনি একজন আইনজীবী এবং ক্লিন ইমেজের মানুষ। এই কারণে রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক।’
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে ছাত্র-জনতার একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের (ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রমুখ) পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়। পুলিশের সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন।
ফলশ্রুতিতে মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে গুলি রেটিনার পেছনে চলে যায় এবং তিনি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।
ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের মে মাসের ২৫ তারিখে ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে সাবেক হাসিনা, শিরীন শারমিনসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা করেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম রয়েছে। গত রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন (কমপ্লিট শাটডাউন চলাকালে) এবং আন্দোলনের অন্যান্য সময়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিরীন শারমিন চৌধুরী অন্যতম কুশীলব ছিলেন। তার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘শিরীন শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় তাকে জেল হাজতে রাখা প্রয়োজন।’


