দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর প্রস্তুতি পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তাপ্রাপ্ত লোকাল গভার্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্টের (এলজিসিআরআরপি) উদ্যোগে বগুড়ার মম ইনে আয়োজিত ‘লোকাল প্রিপেয়ার্ডনেস প্ল্যান (এলপিপি)’ বিষয়ক ফিডব্যাক কর্মশালায় একথা বলেন বক্তারা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী সিটির করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।
এলজিসিআরআরপি, এলজিইডি সদর দপ্তরের প্রকল্প পরিচালক এন এস এম জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, জনস্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি এবং নগর সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নেওয়া স্থানীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনার ওপর মতামত দেন।
বক্তারা বলেন, এলপিপি নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে স্থানীয় ঝুঁকি ও দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ, দায়িত্ব বণ্টন, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রস্তুতি কার্যক্রম নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে সহায়তা করবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ঝুঁকি মূল্যায়ন, জরুরি সাড়া প্রদান ব্যবস্থা, অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। স্থানীয় বাস্তবতা, নাগরিক চাহিদা এবং কারিগরি দৃষ্টিভঙ্গিকে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় প্রস্তুতি পরিকল্পনা এলজিসিআরআরপির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নগর সেবা উন্নয়ন, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক নগর ব্যবস্থাপনা জোরদারে এলপিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মশালায় পাওয়া মতামত পরিকল্পনাটিকে আরও বাস্তবসম্মত, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক এবং বাস্তবায়নযোগ্য করতে সহায়ক হবে।
সমন্বিত উদ্যোগ, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ, সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মশালার সমাপ্তি হয়।


