নাগরিকত্ব জালিয়াতির অপরাধে চট্টগ্রাম থেকে গোলাম সারোয়ার খান নামক এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দেশ ছাড়ার প্রস্তুতিকালে শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ডমেস্টিক ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, গোলাম সারোয়ার চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মো. সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি আভিযানিক দল বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে গোলাম সারোয়ারকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি কাগজপত্র ব্যবহার করে গোলাম সারোয়ার নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্টও সংগ্রহ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে, বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকায় ডিবির অভিযানে তার দেশ ছাড়ার চেষ্টা ভেস্তে যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ‘গোলাম সারোয়ার খান বড় সাজ্জাদের ফুফাতো ভাই ও সহযোগী। বড় সাজ্জাদের অধীনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামের অপরাধজগতের অন্যতম আলোচিত নাম। তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিদেশে থেকেও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশে থাকা সহযোগীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী ও রাউজান এলাকায় বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের তৎপরতা রয়েছে। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি, হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও হয়েছে।
বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া, চাঁদা দাবি, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি ছোড়া এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য সংগ্রহ করছে।
গোলাম সারোয়ারকে আটকের পর তার ব্যবহৃত পরিচয়পত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


