জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
মঙ্গলবার সংগঠন দু’টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্প্রতি নিকোটিন পাউচের মান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এজন্য সরকারি এ সংস্থাটি ট্যোবাকো এন্ড ট্যোবাকো প্রোডাক্ট টেকিনিক্যাল কমিটিও গঠন করেছে। অথচ এ কমিটিতে তামাক কোম্পানিকে যুক্ত করা হলেও সরকারের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এবং তামাকবিরোধী সংস্থাগুলোর কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
এধরণের কমিটিতে তামাক কোম্পানির প্রতিনিধি রাখা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর লঙ্ঘন বলে জানায় প্রজ্ঞা ও আত্মা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য নিকোটিন পাউচ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তামাক কোম্পানি নিকোটিন পাউচকে ‘তুলনামূলক কম ক্ষতিকর’ দাবি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে, নিকোটিন পাউচে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা তীব্র আসক্তি সৃষ্টি করে। এটি শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করাসহ হৃদরোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় গ্রাহক হয়ে উঠছে কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম। তবে ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়াসহ কমপক্ষে ১৬টি দেশ তরুণদের মাঝে আসক্তি রোধে নিকোটিন পাউচ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এবিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। এখন পণ্যটি বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।’
তিনি আরও বলেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই’র উদ্যোগে নিকোটিন পাউচের জাতীয় মান প্রণয়নের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপন্থী বলে মনে করে প্রজ্ঞা ও আত্মা।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান এবিএম জুবায়ের।


