পবিত্র আশুরা ও কারবালার শহীদদের স্মরণে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ আসর সমিতির মসজিদে আল কোরআন স্টাডি সেন্টার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়েখ মু. জামাল উদ্দিন।
এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাবেক সহ-সভাপতি খালেদ আহমেদ, মাওলানা খন্দকার শহীদুল হক, খন্দকার রেজাউল করিম এবং জাকারিয়া সরকার।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুজাহিদুল ইসলাম এবং এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইনজীবী আশরাফ-উজ-জামান।
আলোচনা সভায় শায়েখ মু. জামাল উদ্দিন কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিকে ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও মিথ্যার সংঘাতের এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের অন্যায় ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে হজরত ইমাম হোসেনের (রা.) লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মূলত সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ইমাম হোসেন (রা.) খেলাফতের মূলনীতি রক্ষায় ইয়াজিদের সঙ্গে কোনো আপস করেননি এবং রাজতন্ত্রকে মেনে নেননি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, হজরত ইমাম হোসেন (রা.) জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অবিচল থেকে বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দিয়ে গেছেন যে, অন্যায় ও জুলুমের শাসনব্যবস্থার কাছে কখনো মাথা নত করা যায় না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শায়েখ মু. জামাল উদ্দিন হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) শাহাদাতের পূর্ববর্তী কিছু আধ্যাত্মিক ঘটনা ও বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী–তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় হজরত ইমাম হোসেন (রা.) তার মা হজরত ফাতেমা (রা.), বাবা হজরত আলী (রা.) এবং নানা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জিয়ারত লাভ করেন। স্বপ্নে তারা তাকে শাহাদাতের সুসংবাদ দেন এবং আল্লাহর পথের বীর হিসেবে অভিহিত করেন।
আলোচনা সভা শেষে কারবালার সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দোয়া মাহফিলে সুপ্রিম কোর্টের বিপুল সংখ্যক আইনজীবী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশ নেন।


