বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মুক্তি এবং দেশজুড়ে বাউল, সুফি, মাজার-দরবারসহ মানুষ ও প্রাণপ্রকৃতির ওপর চলমান হামলার বিচারসহ নয় দফা দাবিতে ‘প্রতিরোধ যাত্রা’ করেছে ৮০টি সংগঠন।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ মন্তব্য করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘পদে পদে আমাদের প্রত্যাশা ভঙ্গ হচ্ছে, সমাজে বৈষম্যবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এবং কর্পোরেট ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে নানা চুক্তি করছে।’
আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি অন্যায় ও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে।’
এ ছাড়া, তিনি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আকম জামাল উদ্দিনের ওপর হামলার নিন্দা জানান।
সমাবেশে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে চলমান পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানায় আবৃত্তি ফেডারেশন।
আয়োজকদের প্রতিনিধি কাজী রোকসানা রুমা টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৮০টি সংগঠন একসঙ্গে এ ‘প্রতিরোধ যাত্রা’ আয়োজন করেছে।
সমাবেশে তারা আবুল সরকারের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, এবং স্বরাষ্ট্র ও সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদত্যাগসহ নয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাউল, সুফি, মাজার-দরবারসহ সংস্কৃতিবান্ধব জনগোষ্ঠীর উপর সব হামলার তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গান ও শরীরচর্চার শিক্ষক নিয়োগ পুনর্বহাল। পালাগান, নাটক, যাত্রা, মেলা, ওরসসহ সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় আয়োজন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ধর্মের নামে ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় মদত বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
এ ছাড়া, শ্রমিক-কৃষক-আদিবাসীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ। লিঙ্গ, পেশা, জাতিগত পরিচয়, মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত জীবনাচারকে কেন্দ্র করে চলমান হামলা কঠোরভাবে দমন। জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও পরিবেশবিনাশী সব প্রকল্প-চুক্তি বাতিল; গোপন চুক্তি নিষিদ্ধ। দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংস্কৃতি উপদেষ্টার পদত্যাগ।
সাংস্কৃতিক সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।


