জাল টাকায় স্বর্ণ কিনতে গিয়ে গ্রেপ্তার রুবেল ২ দিনের রিমান্ডে 

জাল টাকায় স্বর্ণ কিনতে গিয়ে গ্রেপ্তার রুবেল ২ দিনের রিমান্ডে 
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর বনানীতে ভাগ্নির বিয়ের কথা বলে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে গহনা কেনার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে (৪৬) দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

শুক্রবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুম্মান খান আসামিকে আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সময় আদালতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মামলার অভিযোগ সূত্র অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে বনানী সুপার মার্কেটের লেভেল-২-এ মনিমালা জুয়েলার্সে ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন আসামি রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭)। তারা তাদের ভাগ্নির বিয়ের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে আসামিরা প্রায় ২০-২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পছন্দ করে তা বিল ও প্যাক করতে বলেন।

স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম অনেক বেশি হওয়ায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম ফোন করে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান। মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে আসামি রুবেল তার সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করেন।

আরও পড়ুন

নোটগুলো পরীক্ষা করতেই কর্মচারীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তা জাল টাকা বলে নিশ্চিত হন। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় দোকানিদের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে আসামি রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। তবে তার সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ সময় পুলিশ ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে সর্বমোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট এবং ১টি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করে।

এ ঘটনায় শুক্রবার মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম (৫০) বাদী হয়ে গ্রেপ্তার আসামিসহ দুইজনের নামে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জাল টাকার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই জাল টাকা উৎপাদন ও সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিতকরণ, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার আসামি রুবেল আহম্মেদ ফকির একজন পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান, উত্তর পশ্চিম এবং নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল টাকা তৈরি, প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ ১৬টি মামলা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad