রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম হীরা (৪০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বন্ধু কামরুল ফকিরকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তোরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শরিফুল ইসলাম হীরা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তোরাইড় মোড়-কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।
গ্রেপ্তার কামরুল ফকির গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ও কামরুলের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা লেনদেন নিয়ে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সপ্তাহখানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত ছিল।
শনিবার সকালে বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তোরাইড় মোড় এলাকায় শরিফুলের পথরোধ করেন কামরুল। বাকি টাকা পরিশোধ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে কামরুল ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে ও পাঁজরে আঘাত করে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যে কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং আসামির বিরুদ্ধে আইনই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


