টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে পদ্মায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
গত ১৫ থেকে ২০ দিনে উপজেলার অন্তত চারটি এলাকায় শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফসলি জমি হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদীপাড়ের শত শত কৃষক।
উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়া এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে নদীর পানি বেড়েছে। এতে পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন তীব্র হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতভিটাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নদীভাঙনের শিকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে অস্থায়ীভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়। এতে সাময়িকভাবে ভাঙন কমলেও স্থায়ী সমাধান হয় না। প্রতিবছর ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা না হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর এলাকাও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো আমাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাউবো কাজ করছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।’
ভাঙনকবলিত মানুষের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


