কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশের বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। ১৯ কিলোমিটার সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে টিউমারের মতো উঁচু-নিচু অংশ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
শুক্রবার সকালে গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণ উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ততম টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড হয়ে আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, মাহিলাড়া, বাটাজোর ও বামরাইল বাসস্ট্যান্ডের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। এসব স্ট্যান্ডের মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় মহাসড়কের গৌরনদী অংশের এই দশা হয়েছে। সম্প্রতি বর্ধিত করা অংশের উচ্চতা মূল সড়কের সমান না হওয়ায় যানবাহন সেখানে নামতে পারে না। আবার কোথাও কোথাও দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। সংকুচিত এই সড়কে গর্তের পাশাপাশি চালকদের বেপরোয়া গতি ও প্রতিযোগিতার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া, সওজের দেওয়া ইট ভারি যানবাহনের চাপে গুঁড়ো হয়ে ধুলা সৃষ্টি করায় ছোট যানের চালক ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
যানবাহন চালকেরা জানিয়েছেন, মহাসড়কটি কোথাও খানাখন্দে ভরা, আবার কোথাও ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু। গর্তে পড়ে মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চাকা, ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি যাত্রীদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত সড়কটি স্থায়ী মেরামতের দাবি জানান।
দূর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কের মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত অংশ উঁচু-নিচু থাকায় গাড়িগুলো কম প্রশস্ত অংশ দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে। তা ছাড়া থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলায় দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সড়কটি পুরোপুরি প্রশস্ত করে মেরামত করা এবং চালকদের সচেতন করা গেলে দুর্ঘটনা কমবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে কিছু গর্ত সৃষ্টি হয়েছে যা তারা ধারাবাহিকভাবে মেরামত করছেন। তবে বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।


