রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় হওয়া মামলায় আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন করে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অপর আসামি হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আদিব আলম জামিন পেয়েছেন।
রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন তারা। পরবর্তীতে রমজানুল হক নিহাদ জামিন আবেদন প্রত্যাহার করেন। অপর আসামি আদিবের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল সেই ভবনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিকসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করেছে আদালত। ওইদিন এ মামলায় পলাতক ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়। আগামী ১৯ মে আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওইদিন অভিযোগপত্রভুক্ত ২২ জনের মধ্যে নয়জন আদালতে হাজির ছিলেন। অপর ১৩ জন অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামিরা হলেন আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, এ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ। অপর আসামিরা জামিনে রয়েছেন।
এর আগে, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সাতটি ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক শাহ জালাল মুন্সী এ অভিযোগ পত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামিরা হলেন চায়ের চুমুক কফিশপের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ারুল হক, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রমজানুল হক নিহাদ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মুন্সি হামিমুল আলম বিপুল, কাচ্চি ভাই, খানাজ এবং তাওয়াজ রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহেল সিরাজ, চায়ের চুমুক কফিশপের স্পেস মালিক ইকবাল হোসেন কাউসার, কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জেইন উদ্দিন জিসান, জেস্টি রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মোহর আলী পলাশ ও মো. ফরহাদ নাসিম আলীম, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মতিন, ছয় তলার ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম খাঁন, মেজবানিখানা রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী লতিফুর নেহার, খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও অঞ্জন কুমার সাহা, এ্যামব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী মো. মুসফিকুর রহমান, পিৎজাইন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী জগলুল হাসান, স্ট্রিট ওভেন রেস্টুরেন্টের স্বত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান ও হোসাইন মোহাম্মদ তারেক, ফুকো রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ, মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ, আদিব আলম, রাফি উজ-জাহেদ ও শাহ ফয়সাল নাবিদ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে সরকারী বিধি-নিষেধ অমান্য করেন। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বৈধ অনুমোদন না নিয়ে নিয়ম-নীতি না মেনে অবৈধভাবে হোটেল ব্যবসা পরিচালনাসহ হোটেলে গ্যাস সিলিন্ডার ও ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করেন। যার কারণে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টায় বেইলি রোডে গ্রিন কোজি ভবনে আগুন লেগে ৪৬ জন লোক নিহত হয়। এর মধ্যে তিনজন সম্পূর্নরূপে আগুনে পুড়ে মারা যান। ১১ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।
এ ঘটনায় ১ মার্চ পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পরস্পর যোগসাজশে অবহেলা, অসাবধানতা, বেপরোয়া, তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজের জন্য গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নি দগ্ধ ও শ্বাসনালিতে ধোঁয়া প্রবেশ করে জীবন বিপন্নসহ মারাত্মক জখম ও এর ফলে মৃত্যু ঘটানো এবং ক্ষতি সাধন করার অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।


