নতুন প্রজন্মের নায়কদের মধ্যে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা একটা অবস্থান গড়ে তুলেছেন আদর আজাদ। ‘তালাশ’, ‘যাও পাখি বলো তারে’, ‘লোকাল’, ‘টগর’, ‘লিপস্টিক’ ছবিগুলোতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘স্বপ্ন দেখা রাজকন্যা’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর)। তাই ছবিটি মুক্তিতে আলাদা অনুভূতি কাজ করছে তার।
ছবির প্রযোজক মৌসুমী মিথিলা ও নির্মাতা মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পুরস্কার পাওয়া একজন পরিচালকের ছবির মধ্য দিয়ে আমার যাত্রা শুরু—এটা ভাবতেই ভালো লাগে।’
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কাহিনিকার সুদীপ্ত সাইদ খান ছবির গল্প লিখেছেন। রোমান্টিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিতে আদরের চরিত্রের নাম রাজন—যে ভালোবাসার জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত। চরিত্রটিকে তিনি বর্ণনা করেন ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ হিসেবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিনেমা মুক্তির সংকটের মাঝেও ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ মুক্তি পাচ্ছে ২৭টি হলে। আদরের মতে, এটা তার পরিচিতির কারণে নয়, বরং ভাগ্যের সহায়তা। তিনি বলেন, ‘আমার স্টারডম আছে কি না জানি না। তবে ভাগ্য বরাবরই আমাকে ফেভার করেছে।’ এর আগে শাকিব খানের সঙ্গে ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘লোকাল’ ছবিও ব্যবসাসফল হয়েছিল।
শাকিব খানের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে আদর স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, দেশের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার হলেন শাকিব খান, আর সেই জায়গায় পৌঁছাতে হলে দীর্ঘ সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। ‘আমি চাই ধীরে ধীরে উঠতে, লিফটে নয়, সিঁড়ি দিয়ে,’ বলেন আদর।
অভিনয়ে আসার আগে হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করে পাঁচ তারকা হোটেলে চাকরি করতেন তিনি। ভালো বেতন ও নিরাপদ ক্যারিয়ার ছেড়ে পুরোপুরি ঝুঁকেছেন সিনেমার দিকে। আদরের ভাষায়, ‘অভিনয় আমার ধ্যান-জ্ঞান। এর বাইরে কিছু ভাবতে পারি না।’
তার অভিনীত ছবির মধ্যে মুক্তির অপেক্ষায় আছে আলোক হাসানের ‘নাকফুলের কাব্য’। এ ছাড়া জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’–এর কাজ প্রায় শেষ। নতুন কয়েকটি ছবির কথাও জানালেন, তবে সেগুলো আপাতত গোপন রাখতে চান। ছোট পর্দা বা ওয়েবে আর কাজ করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি—পুরো মনোযোগ শুধুই চলচ্চিত্রে।
অভিনেতাদের অনেকে যেমন বিদেশে স্থায়ী হচ্ছেন, আপাতত সে পরিকল্পনা নেই আদরের। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিজেকে সম্ভাবনাময় অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চান আদর আজাদ। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন, তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট—‘শীর্ষে উঠতে চাই, তবে শর্টকাট পথে নয়। ধাপে ধাপে, সিঁড়ি বেয়ে।’


