বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু ও সামসুল আলম। তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করছেন। রোববার (১২ জুলাই) নির্বাচনী আপিল বোর্ড তাদের প্রার্থীতা ফিরিয়ে দিয়েছে। একইসঙ্গে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে তাদের দুজনের নাম রয়েছে।
আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু। সদস্য হিসেবে আছেন উপসচিব ফারহানা ইসলাম ও চিত্রা শিকারী।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিলো ন্যায় বিচার পাবো। আপিল বোর্ডের রায়ে আমরা খুশি। আশা করি ভোটে নির্বাচিত হয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবো।’
প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচিত কমিটির হাতেই ছিল। তবে ২০১৩ সালের পর মাঝে স্বল্প সময়ের বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যকর নেতৃত্বের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে।
গত সাত বছরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন একাধিকবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর টানা সাত বছর নতুন নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
এই দীর্ঘ অচলাবস্থার মূল কারণ ছিল ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং আইনি জটিলতা। সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র পাওয়ার চার বছর পর সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তবে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে একাধিক ‘আম-মোক্তারনামা’র মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। এই প্রথা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমিতির সদস্যদের একাংশ আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।
২০২২ সালের ২১ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ওই নির্বাচনে সেলিম খান-ডিপজল প্যানেল এবং মুশফিকুর রহমান গুলজার-কামাল মো. কিবরিয়া লিপু প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিল। কিন্তু ভোটগ্রহণের দিনই প্রযোজক মোহাম্মদ হোসেনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। অভিযোগ ছিল, একই টিআইএনের আওতায় একাধিক ব্যক্তি ভোটার হয়েছেন। পরে আদালত সংশ্লিষ্টদের ভোটাধিকার বাতিল করে নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।
এরপর নতুন ভোটার তালিকা নিয়েও বিরোধের অবসান হয়নি। ফলে নির্বাচিত নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া বছরের পর বছর আটকে থাকে।
দীর্ঘ সাত বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে। এবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয় ‘আম-মোক্তারনামা’ প্রথায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রযোজক যতগুলো চলচ্চিত্রই নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ ও সদস্যপদ নবায়নের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়।
প্রথমে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১ জুলাই। পরে তা পিছিয়ে আগামী ৮ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত রোববার (৫ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনের জন্য ৪০ জন বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। তবে সেই তালিকায় সামসুল আলম ও খোরশেদ আলম খসরুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।


