কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে ৫৮ ফুট দীর্ঘ একটি মৃত বেলিন তিমি। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, গত দুই যুগের মধ্যে এত বড় তিমি এই উপকূলে আর আসেনি।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে সৈকতের ঝাউবাগানের পূর্ব পাশে বিশালাকার প্রাণীটি আটকে পড়ে। পরিবেশবিদরা এই ঘটনাকে সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য চরম ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোররাতে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে বঙ্গোপসাগরে মৃত তিমিটিকে ভাসতে দেখেন জেলেরা। খবর পেয়ে ‘উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা’ (উপরা) -এর সদস্যরা সাগরে গিয়ে তিমিটি উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে দেহটি অর্ধগলিত ও অত্যন্ত ভারী হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তিমিটিকে টেনে আনা সম্ভব হয়নি। পরে দুপুরের জোয়ারে মৃত তিমিটি নিজে থেকেই সৈকতে ভেসে আসে।
সৈকতে দানবীয় তিমি আটকে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তিমিটিকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করে।
উপরা-এর আহ্বায়ক বাচ্চু খলিফা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিমিটির শরীরের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ আগে সাগরের গভীরেই এর মৃত্যু হয়েছিল। ঠিক কী কারণে এটি মারা গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাগরের এই শীর্ষ স্তন্যপায়ী প্রাণীর অকালমৃত্যু আমাদের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বড় ইঙ্গিত। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার জন্য তিমিটির কঙ্কালটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, খবর পেয়ে স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিমিটির দেহাবশেষ উদ্ধার ও কঙ্কাল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাগরে প্লাস্টিক দূষণ, বড় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা অথবা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের তাপমাত্রা ও পরিবেশের আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে তিমিটি মারা গিয়ে থাকতে পারে। সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে ময়নাতদন্ত ও নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।


